১৪ অক্টোবর, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জের মাধবপুরে এমপিওভুক্ত ৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিধিমালা ও এমপিও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ধর্মীয় ব্যক্তিরা।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। অভিযোগ উঠেছে, হবিগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়কে ম্যানেজ করে দিনের পর দিন তাঁরা কাজির লাইসেন্স বহাল রেখেছেন।
অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন কাজি আজিজুর রহমান, সেলিম হোসেন, মো. জিয়া উদ্দিন, ফয়েজ উদ্দিন, জুনায়েদ আহমেদ লস্কর, নুরুল ইসলাম ও অলিউর রহমান।
অভিযোগ অনুযায়ী, কাজি আজিজুর রহমান বানেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বুল্লা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার, সেলিম হোসেন মাধবপুর দরগাবাড়ি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক ও মাধবপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার, মো. জিয়া উদ্দিন তালেবপুর আহসানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বহরা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার, ফয়েজ উদ্দিন ড. মহিউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাঘাসুরা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার, জুনায়েদ আহমেদ লস্কর মাধবপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাতিয়াইন ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার, নুরুল ইসলাম ইটাখোলা সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক ও জগদীশপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার এবং অলিউর রহমান মাধবপুর প্রেমদাময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আদাঐর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর ১১.১৭(ক) অনুচ্ছেদের বিধান উল্লেখ করে অভিযোগকারীরা বলছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের একাধিক পদ, চাকরি বা আর্থিক লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকার বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকের অভিযোগ, শিক্ষকতার পাশাপাশি নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদানের সময় ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে বিদ্যালয় চলাকালে বিয়ে নিবন্ধনের কাজ পরিচালিত হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন।
এ ছাড়া প্রতিনিধির মাধ্যমে বিয়ে পড়ানো, জন্মনিবন্ধন যাচাই ছাড়া বিয়ে নিবন্ধন এবং বাল্যবিবাহের অভিযোগও উঠেছে।
মাধবপুর প্রেমদাময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আদাঐর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার অলিউর রহমান বলেন, “আমরা ঠিকমতো শিক্ষকতা করছি। পাশাপাশি নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্বও পালন করছি।
এতে কারও কোনো সমস্যা নেই।”
শিক্ষক ও কাজী জিয়াউদ্দিন বলেন, “আমরা প্রতিনিধির মাধ্যমে বিয়ে পড়াই। কাজী একটি সেবামূলক দায়িত্ব, এটি কোনো অন্যায় নয়।”
মাধবপুর নিকাহ রেজিস্ট্রারদের একটি সংগঠননের মাধ্যমে করে হবিগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে নিয়মিত অর্থ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন ব্যক্তি। তবে এ অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন আলেমের দাবি, নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রচলিত আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
হবিগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার একেএম রফিকুল কবির বলেন, “এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কাজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না, তা বিধিবিধানের বিষয়। এ ধরনের অনিয়মের তথ্য পেলে লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে শিক্ষা অফিসও ব্যবস্থা নিতে পারে। আমাদের কোনো কমিশন দেওয়া হয় না।” তিনি আরও বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, “এ বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ দিলে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাধবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।