১৪ Jul, ২০২৬
Md Ashikur Rahman,
ছবি: চলতি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন, যেখানে ফরাসিদের ঐতিহাসিক আধিপত্যের বিপরীতে সাম্প্রতিক দুর্দান্ত পারফর্ম করা স্প্যানিশদের আক্রমণাত্মক ফুটবল এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যখন মুখোমুখি হয় ফ্রান্স ও স্পেন, তখন সেটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ থাকে না- এটি হয়ে ওঠে ইউরোপীয় ফুটবলের দুই মহাশক্তির আধিপত্যের লড়াই। দুই দর্শনের লড়াই, দুই বিশ্বাসের লড়াই।
একদিকে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, অন্যদিকে ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেন। দু’দলের দ্বৈরথে আছে ইতিহাস, গৌরব, প্রতিশোধ আর নতুন অধ্যায় লেখার স্বপ্ন। তবে সমর্থকদের জন্য অপেক্ষা করছে ভরপুর রোমাঞ্চ।
দু’দলের মুখোমুখি লড়াইকে অনেকেই দেখছেন ‘ফাইনালের আগের ফাইনাল’ হিসেবে। ডালাসে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টায় শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ। জয়ী দল পৌঁছে যাবে শিরোপার খুব কাছে।
১৯২২ সালে প্রথমবার মুখোমুখি হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বহুবার দেখা হয়েছে দু’দলের। প্রায় এক শতাব্দীর এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কখনো ফ্রান্স ছিল এগিয়ে, আবার কখনো আধিপত্য দেখিয়েছে স্পেন।
ফ্রান্স ও স্পেন এখন পর্যন্ত একে অপরের বিপক্ষে খেলেছে ৩৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এর মধ্যে ফ্রান্স জিতেছে ১৭টি, স্পেন ১৩টি, আর ৮টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। গোলের হিসাবেও এগিয়ে ফরাসিরা। তারা করেছে ৬৭টি গোল, বিপরীতে স্পেনের গোল ৪০টি।
তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে এই লড়াই খুব বেশি হয়নি। এর আগে মাত্র একবার বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছিল দু’দল। ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জিনেদিন জিদানের নেতৃত্বে ফ্রান্স ৩-১ গোলে হারিয়ে স্পেনকে বিদায় করেছিল। সেই স্মৃতি এখনো স্প্যানিশ সমর্থকদের মনে তাজা।
ইউরো আসরে অবশ্য পাল্লা ভারী স্পেনের। ২০১২ ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে তারা ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পথে এগিয়ে যায়। আবার ২০২১ উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে ২-১ গোলে জিতে শিরোপাও ঘরে তোলে ফ্রান্স।
এরপর ২০২৪ ইউরোর সেমিফাইনালে লামিন ইয়ামালের দুর্দান্ত গোলে ফ্রান্সকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে স্পেন। ফলে সাম্প্রতিক লড়াইগুলোতে দু’দলই একে অপরকে হারানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠে নামছে।
এই সেমিফাইনাল শুধু ফাইনালের টিকিটের লড়াই নয়, ইউরোপের দুই ফুটবল দর্শনের সংঘর্ষও। স্পেনের বল দখলভিত্তিক নান্দনিক ফুটবলের বিপরীতে ফ্রান্সের গতি, শক্তি ও কার্যকর আক্রমণ। সেয়ানে-সেয়ানে লড়াই বলতে যা বুঝায়।
বর্তমান বিশ্বকাপে দু’দলের যাত্রাও ছিল দারুণ। স্পেন আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে, আর ফ্রান্স দেখিয়েছে রক্ষণ ও পাল্টা আক্রমণের নিখুঁত সমন্বয়। দু’দলের স্কোয়াডেই রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ও প্রতিভাবান ফুটবলারদের সমাহার।
স্পেন ছয় ম্যাচে মাত্র ১ গোল হজম করে টুর্নামেন্টের সেরা রক্ষণ গড়েছে। বিপরীতে ফ্রান্স ১৬ গোল করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা দল। অর্থাৎ, জমাট ডিফেন্সের সামনে থাকছে বিস্ফোরক আক্রমণভাগের পরীক্ষা।
সেই সাথে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য ফ্রান্সের, আর স্পেন চাইছে ৩৬ ম্যাচের অপরাজেয় ধারা ধরে রেখে শিরোপা পুনরুদ্ধারে আরো এগিয়ে যেতে। নতুন ইতিহাস গড়তে।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে ইতিহাস বলছে ফ্রান্স কিছুটা এগিয়ে আর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে স্পেন সমান ভয়ঙ্কর। তবে সেমিফাইনালের এই মহারণে শেষ হাসি হাসবে সেই দলই, যারা চাপের মুহূর্তে নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে পারবে।
কেননা বড় ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে একটি ভালো মুহূর্তই। একটি ভুল কিংবা একটি অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্য। তবে ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষায় আরেকটি ক্লাসিক দ্বৈরথের।