০৭ মে ২০২৬
হোম স্বাস্থ্য সারাদেশ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি ও বাণিজ্য খেলাধুলা বিনোদন আন্তর্জাতিক ধর্ম ও জীবন লাইফ স্টাইল শিক্ষা প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান পরিবেশ চাকরি বা ক্যারিয়ার মতামত আইন-আদালত কৃষি ও প্রযুক্তি বিশেষ সংবাদ অপরাধ সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্বকাপ ফুটবল
সারাদেশ

ছাতক উপজেলা ভূমি অফিসের বিতর্কিত গাড়ি চালক এখনও বহাল তবিয়তে

০৭ মে, ২০২৬

সাকির আমিন,
সুনামগঞ্জ জেলা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

ছবি: ছাতক উপজেলা ভূমি অফিসের বিতর্কিত গাড়ি চালক এখনও বহাল তবিয়তে

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সরকারি কম্পিউটার ব্যবহারকারী, আওয়ামীলীগ নেতার পছন্দের গাড়ি চালক বিতর্কিত ইজাজুল এখনো আছেন বহাল তবিয়তে। তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি ব্যবস্থা। বরং অপরাধিকে বাঁচাতে এবং স্ব-পদে বহাল রাখতে পক্ষ নিয়েছেন ছাতক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম।

জানা যায়, ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুর রহমানের আস্থাভাজন হওয়ায় পূর্বের গাড়ি চালক আবুল হোসেনকে চাকুরীচ্যুত করে বিশ্বনাথ থেকে ছাতক উপজেলা পরিষদের গাড়ি চালক হিসেবে ইজাজুলকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তখন চাকুরী হারিয়ে লাইভে এসে অজরে কেঁদেছিলেন আবুল হোসেন। ২০২৪ সালের ২৯ মে ছাতক উপজেলা পরিষদের ৬ষ্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তীব্র হয়ে ওঠে জুলাই আন্দোলন। এ আন্দোনের মুখে পালিয়ে যায় আওয়ামীলীগ সরকার। এরপর সারা দেশের ন্যায় ছাতক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু গাড়ি চালক ইজাজুল থেকে যান উপজেলা পরিষদের কোয়ার্টারে। বর্তমানে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর স্থায়ী চালক না থাকায় তিনি ডেইলি বেসিসে এসিল্যান্ডের গাড়ি চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সুযোগে তিনি এসিল্যান্ড অফিসে আধিপত্য বিস্তার করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসিল্যান্ড কার্যালয়ের মেঘনা কক্ষে অন্যান্য স্টাফদের সাথে নিয়মিত সরকারি কম্পিউটারে কাজ করেন এই গাড়ি চালক ইজাজুল। এমন কি ওই ক্ষকের দায়ীত্বরত স্টাফরা না থাকলেও তিনি কম্পিউটারে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা কাজ করেন, এমন অভিযোগ প্রত্যেক্ষদর্শীদের। একটি সূত্র জানিয়েছে ওই কম্পিউটারে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চিঠিপত্র টাইপিং ও ই-মেইল আদান-প্রদান করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সুবিধাভোগী জানান, সরকারী ভূমি লীজ আবেদনের পর ইজাজুলের মাধ্যমে একটি তদন্ত প্রতিবেদনের সারাংশ সংগ্রহ করেছেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে এসিল্যান্ডের পছন্দের লোক হওয়ায় প্রতিদিন বিভিন্ন তদবির ও দালালীতে জড়িয়ে পড়ছেন তিনি এবং পুরো কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।

গেল (৩ মে) প্রতিদিনের মতো অফিস কক্ষে সরকারি কম্পিউটারে কাজ করছিলেন গাড়ি চালক ইজাজুল। এ সময় এক গ্রাহক গোপনে তার ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে পৌঁছায়। বিষয়টি নিয়ে চালক ও এসিল্যান্ডের বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ হলেও এখনো কোন দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে, সরকারি কম্পিউটার ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এখনো গঠন করা হয়নি তদন্ত কমিটি। ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পার পেয়ে গিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয়দের ধারণা, সাবেক রাজনৈতিক নেতার ঘনিষ্ঠ হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি তথ্য ফাঁসের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে, যা সরকারি কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

এ বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার বিকেলে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে গেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম নিজেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার আখ্যা দিয়ে বলেন,
ওই কম্পিউটারে কিছুই নেই। সে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেই পারে। এটি যে কেউ ব্যবহার করতে পারবে! চাইলে আপনারা (সংবাদকর্মীরা) ব্যবহার করতে পারেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমার গাড়ি চালক এখানে (সরকারী কম্পিউটারে) বসতেই পারে।
তিনি আরও বলেন আমার স্থায়ী গাড়ি চালক নেই, যে আছে সে ডেইলি বেসিসের। প্রয়োজনে তাকে বাদ দিতে পারি। প্রায় ২০ মিনিট আলোচনার পরও তিনি এ বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বুঝাতে চেষ্টা করেছেন চালকের হাতে সরকারী কম্পিউটার এটা কোন অপরাধ না! তার এই বক্তব্যের কিছু অংশকে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ‘অপেশাদার’ ও ‘দায়সারা’ বলে মন্তব্য করেছেন। দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রশ্নবিদ্ধ ও রহস্যজনক বলেও তারা মনে করেন। তবে এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ বলেন, অফিসের দায়িত্বের জন্য আলাদা আলাদা লোক রয়েছে। গাড়ি চালকের কাজ গাড়ি চালানো, কম্পিটার চালানো নয়।

Related Article
comment
মোঃ মনির হোসেন বকাউল
29-Sep-23 | 10:09

Good news

মোঃ মনির হোসেন বকাউল
10-Dec-23 | 04:12

Good