২৩ Jul, ২০২৬
মোঃ আয়ুব মিয়া,
ছবি: চুরির আলামত
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় হঠাৎ করেই সরকারিপ্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকেটার্গেট করেসক্রিয় হয়েউঠেছে একটিসংঘবদ্ধ চোরচক্র। চলতিমাসেই উপজেলার৪টি সরকারিপ্রাথমিক বিদ্যালয়েচুরির ঘটনাঘটেছে। একেরপর একবিদ্যালয়ে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায়স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ওসচেতন সমাজেরমাঝে তীব্রউদ্বেগ ওক্ষোভের সৃষ্টিহয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, চোরচক্রের শিকারহওয়া বিদ্যালয়গুলোহলো—চন্দনাইশসদর সরকারিপ্রাথমিক বিদ্যালয়, ফতেনগর সরকারিপ্রাথমিক বিদ্যালয়, দোহাজারী সরকারিপ্রাথমিক বিদ্যালয়এবং পাঠানদণ্ডীউজির আলীসরকারি প্রাথমিকবিদ্যালয়। চুরি হওয়া মালামালের মধ্যেরয়েছে শিক্ষার্থীদেরডিজিটাল শিক্ষাদানেব্যবহৃত ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, আইপিএস, সাউন্ড সিস্টেম, কম্পিউটারসহগুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক ও শিক্ষা উপকরণ।এসব মূল্যবানসরঞ্জাম চুরিহয়ে যাওয়ায়বিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক পাঠদান ও আইসিটিভিত্তিক শিক্ষাকার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটিসরকারি প্রাথমিকবিদ্যালয়ে নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতারজন্য চুক্তিভিত্তিক ‘দপ্তরি-কাম-প্রহরী’ নিয়োগবিধিথাকলেও অনেকবিদ্যালয়ে পদটি খালি রয়েছে। কিছুকিছু বিদ্যালয়েপ্রহরীরা দিনেরবেলা দীর্ঘসময় অবস্থানও দাপ্তরিককাজ করায়রাতের বেলাঅনেকেই বিদ্যালয়েঅবস্থান করেননা। ফলেরাতে বিদ্যালয়গুলোঅরক্ষিত থেকেযায়। এসুযোগটি কাজেলাগিয়ে চোরেরদল বিদ্যালয়েরমূল্যবান জিনিসপত্রচুরি করেনিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়গুলোতে ডিজিটাল শিক্ষা নিশ্চিত করতেসরকার ল্যাপটপও প্রজেক্টরদিয়েছিল। কিন্তুরাতে নিরাপত্তানা থাকায়একের পরএক বিদ্যালয়েচুরি হচ্ছে।এ বিষয়েসংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও থানা পুলিশকর্তৃক দ্রুতপদক্ষেপ গ্রহণএবং প্রহরীদেরদায়িত্ব নিশ্চিতকরার জোরদাবি জানিয়েছেনতারা।
গত ২০ জুলাইদিবাগত রাতে৫মে বারেরমতো চন্দনাইশসদর সরকারিপ্রাথমিক বিদ্যালয়েরঅফিস কক্ষেরলক ভেঙেপ্রবেশ করেসিসি ক্যামেরা, মনিটর, নগদটাকাসহ ৫০হাজার টাকারমালামাল নিয়েযায়। এব্যাপারে প্রধানশিক্ষক রুমাচক্রবর্তী বাদী হয়ে চন্দনাইশ থানায়অভিযোগ দায়েরকরেন।
এদিকে গত ১৮জুলাই দিবাগতরাতে চোরেরদল দোহাজারীসরকারি প্রাথমিকবিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙেপ্রবেশ করে২টি ল্যাপটপ, ৮টি বৈদ্যুতিকপাখা, ইউপিএস, মনিটর, প্রজেক্টরসহ২ লক্ষাধিকটাকার মালামালচুরি করেনিয়ে যায়।একইভাবে গত১৯ জুলাইপাঠানদণ্ডী উজির আলী সরকারি প্রাথমিকবিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের দরজা ভেঙেচোর প্রবেশকরে মূল্যবানজিনিসপত্র নিয়ে যায়। একইভাবে ফতেনগরসরকারি প্রাথমিকবিদ্যালয়ে পৃথক চুরির ঘটনা সংগঠিতহয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষাঅফিস থেকেসরঞ্জাম উদ্ধারও আইনানুগসহযোগিতার কোনো তৎপরতা না দেওয়ায়সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ হতাশ। তারা হতাশহয়ে বলেন, "সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল"। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতেভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারমো. ইলিয়াছকেফোনে যোগাযোগকরা হলেতিনি প্রতিনিধিকেতার অফিসেযেতে বলেন।অন্যথায় প্রতিনিধিপাঠালেও সহযোগিতাকরবেন বলেউল্লেখ করেনতিনি।