০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ছবি: অভিযুক্ত বিমল শীল
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুরে আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে হুমকি, নিরাপত্তাহীনতা, অর্থ আত্মসাৎ ও মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগে একটি ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অপর ঘটনায় প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী দিলিপ রায়ের পূত্র অনিন্দ্য রায় (৩০) জগদীশপুর গ্রামের বাসিন্দা।
তিনি অভিযোগ করেন, একই উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের বিমল শীলের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আর্থিক লেনদেন রয়েছে।
এ লেনদেনের অংশ হিসেবে ব্যাংকের মাধ্যমে ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং নগদ ১৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা তাঁর পাওনা রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এসব অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে না।
অনিন্দ্য রায়ের অভিযোগ, পাওনা অর্থ পরিশোধ এড়িয়ে যেতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর দাবি তোলা হচ্ছে। কখনো বলা হচ্ছে ৩৩ লাখ টাকা, আবার কখনো ৫১ লাখ টাকা তাঁর কাছেই পাওনা রয়েছে।
এতে করে বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে জটিল করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে তাঁর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়। এরপর বিভিন্ন স্থানে তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে তাঁর বাবার কাছ থেকেও অর্থ আদায় করা হয়েছে।
এদিকে, আর্থিক বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের শেষ দিকে অনিন্দ্য রায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিপক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের শারীরিক ক্ষতি, হয়রানি এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে আসছে।
এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি থানায় জিডি করতে বাধ্য হন।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের শেষের দিকে বিমল শীল একটি অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হন। ওই মামলায় পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো অনিন্দ্য রায় তাঁর কাছে সংরক্ষণের জন্য রেখেছিলেন।
এ বক্তব্যের ভিত্তিতে অনিন্দ্য রায়কেও মামলার আসামি করা হয়। তবে অনিন্দ্য রায় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চলমান আর্থিক বিরোধ আড়াল করতেই তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
জানা গেছে, জামিন আবেদনে বিমল শীল পুলিশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্যে পরস্পরবিরোধিতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব মোর্শেদ খান
বলেন, অনিন্দ্য রায় বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পাশাপাশি অস্ত্র আইনে অনিন্দ্য রায় ও বিমল শীল—উভয়কে আসামি করে একটি মামলা রয়েছে। বিষয়গুলো তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
ছবি:অভিযুক্ত বিমল শীল
Good news
Good
wonderful news