২০ Jul, ২০২৬
ছবি: সন্ত্রাসী হামলায় আহত ভুক্তভোগীরা
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে এক পরিবারের ওপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। রক্তাক্ত সেই পরিবারের সদস্যরাই এখন উল্টো মামলার আসামি—এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে
গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সংঘটিত এ হামলায় নারীসহ পরিবারের একাধিক সদস্য গুরুতর আহত হন। আহতদের কারও শরীরে ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত সেলাই দিতে হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন—আনছনা বেগম, তহিদ মিয়া, বাবুল, পুতুল বেগম ও রহমত আলীসহ আরও কয়েকজন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, হামলার পর তারা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেই সুযোগে হামলাকারীদের একজন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধেই থানায় মামলা দায়ের করে। বর্তমানে পুলিশ উল্টো আহতদেরই খুঁজছে—এমন অভিযোগ তাদের।
সোমবার (২০ জুলাই) সাংবাদিকদের সামনে কাঁদতে কাঁদতে বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি শুধু একটি হামলার ঘটনা নয়, বরং স্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় প্রভাবশালী মিন্টু ও তাহের বাহিনীর লোকজন এ হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলার পর তারা থানা ‘ম্যানেজ’ করে উল্টো মামলা দিয়ে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে। এমনকি মাদকবিরোধী অভিযানের অজুহাতে হামলাকে বৈধতা দেওয়ারও চেষ্টা চলছে।
গুরুতর আহত পুতুল বেগম বলেন, “আমাদের পরিকল্পিতভাবে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই—দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিন্টু ও তাহের মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধর্মঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন পারুল বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলেছি।”
মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, “আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ছবি: সন্ত্রাসী হামলায় আহত ভুক্তভোগীরা