১৮ মার্চ, ২০২৬
ছবি: পাহাড়ে নওমুসলিমদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরন করেন সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ
পার্বত্যচট্টগ্রামে খ্রিস্টান মিশনারির তৎপরতা জোরালো ভাবে চল্লেও বিভিন্নধর্ম থেকে এসে ইসলামধর্ম গ্রহণ করা নওমুসলিমরা পিছিয়েপড়ছে বলে জানিয়েছে সার্বভৌমত্বসুরক্ষা পরিষদ এর প্রধান সমন্বয়কমোঃ মোস্তফা আল ইহযায।
বুধবার (১৮ মার্চ ) খাগড়াছড়ি জেলাররামগড়ে নওমুসলিমদের মাঝে ঈদ উপহারবিতরণ কালে এসব কথাবলেন তিনি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারের ঈদসামগ্রীর মধ্যে ছিল, চাউল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আলু, নুডুলস, চিনি, লাচ্চা সেমাই, বাংলা সেমাই, নারিকেল, বাদাম, দুধ সহ ১৩ধরনের খাদ্য সামগ্রী।
এসময়মোস্তফা ইহযায আরও বলেন, খ্রিস্টানমিশনারি এগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরমাঝে দান/অনুদান প্রদানকরে এবং লোভ-লালসাদেখিয়ে পাহাড়ের সহজসরল মানুষদের ধর্মান্তিত করাচ্ছে। যেন দীর্ঘ মেয়াদিসময়ে অত্র অঞ্চলপ একটিস্বাধীন খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠন করা যায়।খ্রিস্টান মিশনারি গুলো পার্বত্য চট্টগ্রামেরউপজাতীয় সন্ত্রাসী সশস্ত্র সংগঠন গুলো কে দিয়েনওমুসলিম, স্থানীয় মুসলিম এবং স্থানীয় বাঙ্গালীজনগোষ্ঠীর মানুষকে অত্র অঞ্চল থেকেউচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র চালিয়েযাচ্ছে।
তাদের এই সব অপকৌশলেরবিরুদ্ধে মুসলিমদের করণীয় কী? আর কীভাবেইসলাম ও মুসলিম এবংবাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তাদের এই মারাত্মক চক্রান্তেরমুকাবিলা করা যাবে? কিভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের নওমুসলিমদের তাদের জুলুম ও নির্যাতন থেকেরক্ষা করা যাবে তাসরকার এবং সচেতন নাগরিকদেরঠিক করতে হবে। নিশ্চয়এ দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেকবড়, আর তা সকলমুসলিমের উপর সমভাবে আবর্তিত।এককভাবে হোক কিংবা সংঘবদ্ধভাবে, রাষ্ট্রীয়ভাবে হোক কিংবা গোষ্ঠীগতভাবে।
দেশেরপ্রতিটি মুসলিম ও দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠীরউপরই এ দায়িত্ব পতিত।কেননা পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি মুসলিম, বৌদ্ধ ও সনাতনী সম্প্রদায়ের ছোট-বড়, নারী-পুরুষনির্বিশেষে সবাই খ্রিস্টান মিশনারিগুলোর বিষাক্ত টার্গেটের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ, নওমুসলিম সহ সকল মুসলমানও পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত প্রতিটি জনগোষ্ঠীর মানুষকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করবেন।
সভাপতিবক্তব্যে মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, ঈদুল ফিতর আমাদেরমুসলমানদের জন্য অন্যতম প্রধানধর্মীয় উৎসব। দিনটি আমাদের মুসলিম ভাইদের জন্য বড়ই আনন্দেরএবং খুশির দিন। পার্বত্য চট্টগ্রামেরনওমুসলিমরা দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করায় এবং ভিন্নধর্ম থেকে মুসলিম ধর্মগ্রহণ করার কারণে নিজজাতিগোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েচরম অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটেরমধ্যে দিয়ে জীবনযাপন করছে।রাষ্ট্রীয় ভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেরমাধ্যমে হতদরিদ্রেরজন্য সহযোগিতা প্রদান করা হলেও পার্বত্যঅঞ্চলের প্রশাসনিক কাঠামো উপজাতিদের হাতে থাকায় নওমুসলিমগণসরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।নওমুসলিমদের প্রতি সাহার্যের হাত বাড়িয়ে দিতেরাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থারপ্রতি বিশেষ অনুরোধ করেন তিনি। সার্বভৌমত্বসুরক্ষা পরিষদ এর উদ্যোগে নওমুসলিমদেরঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে তুলতে বরাবরের মতো এবারও ক্ষুদ্রপ্রয়াস গ্রহণ করা হয়েছে।
আগামীতেওসংগঠনের সদস্যদের নিয়ে নওমুসলিম ওপার্বত্য চট্টগ্রামের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে সহযোগিতামূলক কার্যক্রমঅব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্তকরেন তিনি।
এতেপ্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রামগড় কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুলহক, আরও উপস্থিত ছিলেনমাওলানা রবিউল ইসলাম লাদেন, মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া,শিক্ষাবিদ মরিয়ম বেগম, নওমুসলিম কল্যাণ পরিষদ এর সভাপতি মোঃজাহাঙ্গীর আলম ও সম্পাদকমোঃ জুয়েল হোসেন, প্রমুখ।
ধন্যবাদ 🌸💚
Good news