২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Md Ashikur Rahman,
ছবি: কক্সবাজারের মহেশখালীর উপকূলে এলএনজি টার্মিনাল। ফাইল ছবি
দেশে গ্যাস সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছে না। আর অনেক এলাকায় আবাসিক গ্রাহকদের কম চাপের গ্যাস নিয়ে ভোগান্তি বাড়ছেই। এমন পরিস্থিতিতে বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন ডলার (১১ হাজার কোটি টাকারও বেশি) ব্যয়ে একটি স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব এসেছে। সরকারের কাছে এটি গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সম্ভাব্য একটি উপায় হলেও জ্বালানি বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নতুন এ প্রকল্প দেশের আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়াতে পারে।
রাশিয়ার জ্বালানি কোম্পানি নোভাটেক মিডল ইস্ট সম্প্রতি পেট্রোবাংলার কাছে গ্র্যাভিটি বেইজড স্ট্রাকচার (জিবিএস) এলএনজি টার্মিনালের একটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে। কোম্পানিটির দাবি, ভাসমান টার্মিনালের তুলনায় এটি হবে অধিক স্থিতিশীল, দীর্ঘস্থায়ী এবং আবহাওয়াজনিত ঝুঁকিমুক্ত অবকাঠামো। তবে প্রকল্পটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধানের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং এলএনজি আমদানিতে সরকারের ব্যয় রেকর্ড পরিমাণে বাড়ছে।
দেশে বর্তমানে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে। এ ঘাটতি পূরণে এলএনজি আমদানি এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
২০১৮ সালে বাংলাদেশ প্রথম এলএনজি আমদানি শুরু করে। তখন জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছিল প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। সর্বশেষ অর্থবছরে সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮১ হাজার ৮৭৪ মিলিয়ন ঘনফুটে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয়ও কয়েক গুণ বেড়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার কারণে এ ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলএনজি নির্ভরতার আরেকটি বড় দিক হলো ভর্তুকি। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট দুই মাসে এলএনজি খাতে সরকারের ভর্তুকি ব্যয় ছিল প্রায় ৫০০
কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে সেই ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ভর্তুকির চাপ বেড়েছে প্রায় ৯ গুণ। চলতি অর্থবছরে এলএনজি খাতে মোট ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে ১১ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ফলে নতুন এলএনজি অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবে কতটা টেকসই হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।