০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
মোঃ মনির হোসেন বকাউল,
ছবি: মাধবপুরের আলোচিত প্রেমিক-প্রেমিকা রাইসুল ও তনু
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ভালোবেসে বিয়ে করা এক তরুণ-তরুণীর প্রেমের গল্প এখন ভয়াবহ সংকটে। উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের নিউনগর গ্রামের রাইসুল ইসলাম ও একই ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামের ইউপি সদস্য সুহরাব হোসেনের মেয়ে সামিয়া আক্তার তনু স্বেচ্ছায় ভালোবেসে বিয়ে করে।
বিয়ের প্রমাণ হিসেবে তারা হবিগঞ্জ নোটারি পাবলিকের আইনজীবী শহিদুল ইসলামের কাছে ১ ডিসেম্বর এফিডেভিটের মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করেন। শুধু তাই নয়, বিয়ের পর তারা একসঙ্গে থেকেছে, রাত্রিযাপনও করেছে—এর ভিডিও সাক্ষীসহ সব প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে।
রাইসুল বলেন,
“তনুকে না পেলে আমি বাঁচব না… সে-ও বলেছে বেশি চাপ দিলে সে নিজেকে শেষ করে ফেলবে। আমি আমার ভালোবাসা ও স্ত্রীকে ফিরে পেতে ডিসি ও এসপি মহোদয়ের সহযোগিতা চাচ্ছি। আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন”
কিন্তু পরিবারে ফিরতেই পুরো ঘটনাটি পাল্টে যায়।
তনুর বাবা ইউপি সদস্য সুহরাব হোসেন প্রথমে বিয়ে মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন, এমনকি তরুণ-তরুণীকে বাড়িতে ডেকে নেন। কিন্তু পরে ব্যারিকেড তৈরি করে তাঁদের আলাদা করে ফেলেন।মেয়ে তনুকে করেছেন গৃহবন্দী।
পরিবারে নেয়ার পর তনুকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়, তার বাইরে যাওয়া ও যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে ইউপি সদস্যের প্রভাব খাটিয়ে রাইসুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে—মেয়েকে চাপ দিয়ে মিডিয়ার সামনে মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয়েছে, যাতে রাইসুলকে আইনি ঝামেলায় ফেলা যায়।
রাইসুল বলেন,
“আমরা স্বেচ্ছায় ভালোবেসে বিয়ে করেছি। তার বাবাই প্রথমে বিয়ে মেনে নেয়ার কথা বলেছিলেন। এখন উল্টো আমাকে ফাঁসাতে মামলা দিয়েছে এবং আমার স্ত্রীকে আটকে রেখেছে। আমি শুধু তনুর নিরাপত্তা চাই।”
স্থানীয় সমাজসেবক নাজমুল হাসান বলেন,
“মেয়ের বাবা সুহরাব হোসেন এখানে বাড়াবাড়ি করেছেন। জামাইকে মেনে নিলেই হতো। অকারণে মিথ্যা মামলা দিয়ে একটি পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে।”
তনুর পিতা সোহরাব হোসেন বলেন,প্রেমের জালে ফেলে আমার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। আমার মেয়ের বয়স ১৬। এরা আমার বংশের মান-সম্মান শেষ করে ফেলেছে।আমি আইনের কাছে ন্যায় বিচার চাই।
ধর্মঘরের ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ ফারুক বলেন, বিষয়টি আমরা দেখছি।পক্ষগন চাইলে আমরা মীমাংসা করতে প্রস্তুত।
এলাকার অনেকে বলছেন, দুইজনই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও ইউপি সদস্যের প্রভাব ও একচ্ছত্র ক্ষমতার কারণে বিষয়টি জটিল করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষায়—
“একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এভাবে মেয়েকে চাপ দিয়ে মিথ্যা বিবৃতি নেওয়া, ভিডিও বানানো অত্যন্ত অনৈতিক ও আইনি অপরাধ।”
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন,
ভালোবাসার বিয়ে করা মেয়েকে গৃহবন্দী রাখা এবং ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো—এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আইনের পরিপন্থী। বিষয়টি তদন্ত করে তরুণ-তরুণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে রাইসুল ন্যায়বিচার ও তার স্ত্রী তনুর নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Good news
Good