২৭ অক্টোবর, ২০২৬
ছবি: ভুক্তভোগী কৃষক বাশার আহমেদ
দুই বছর ধরে কোম্পানির দখলে থাকা কৃষিজমি ফিরে পেতে এবার প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মীরনগর গ্রামের কৃষক বাশার আহমদ। ২০২৪ সাল থেকে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করেও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার পাননি তিনি।
বাশার আহমদের দাবি, তাঁর পরিবারের শেষ সম্বল ৩৯ শতাংশ ফসলি জমি দীর্ঘদিন ধরে মাধবপুরের আকিজ গ্লাসকো কোম্পানির দখলে রয়েছে। অপর একটি অংশ বালু দিয়ে ভরাট করে রাখায় সেখানে চাষাবাদ করতে পারছেন না তিনি। জমি ফিরে পেতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে বারবার অভিযোগ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় এবার গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই কৃষক।
অভিযোগপত্রে বাশার আহমদ উল্লেখ করেন, মীরনগর মৌজায় তাঁদের মোট ৩৯ শতক দুই ফসলি জমি রয়েছে। এর মধ্যে ২১ শতক জমি বালু দিয়ে ভরাট করে রাখা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। আরও ১৮ শতক জমি বাউন্ডারি দিয়ে প্রায় দুই বছর ধরে দখলে রাখার অভিযোগ করেন তিনি। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ায় পরিবারের জীবিকা ও খাদ্যসংস্থানে সংকট তৈরি হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
বাশার আহমদের ভাষ্য, ২০২৪ সাল থেকে জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও ভূমি অফিসে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিভিন্ন সময় ঊর্ধ্বতন প্রশাসন থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে এরপরও জমি উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
তিনি বলেন, “এই জমিই আমার পরিবারের শেষ সম্বল। দুই বছর ধরে জমিটি ফেরত পাওয়ার জন্য প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কোথাও সমাধান না পেয়ে এখন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছি।”
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে জমিটি কিনে নেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি তাঁর কৃষিজমি ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।
এদিকে আকিজ গ্লাসকো কোম্পানির ভূমি শাখার কর্মকর্তা জুনায়েদের সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হননি। কোম্পানির কার্যালয়ে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমের সামনে এসে কোনো বক্তব্য দেননি।
এর আগে মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৈত্রী রায় বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। আমরাও একটি অভিযোগ পেয়েছি। আগের অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তৌসিদারকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।”
প্রসঙ্গত, আকিজ গ্লাসকো কোম্পানির বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত অনিয়ম, জমির কাগজপত্র নিয়ে জালিয়াতি এবং পরিত্যক্ত ভূমি নিজেদের নামে নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই ছাড়া কোনো অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে দক্ষিণ মাধবপুর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ও সাবেক যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন বেলাল বলেন, “একটি কোম্পানি যদি এভাবে কৃষকদের জমি আত্মসাৎ করতে চায়, এটি জাতির জন্য লজ্জার। এটি মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল। দ্রুত তদন্ত করে এ ধরনের অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
কৃষক বাশার আহমদের দাবি, তাঁর জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ সরেজমিন তদন্ত করা হোক এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর কৃষিজমি দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
ছবি:ভুক্তভোগী কৃষক বাশার আহমেদ
Good news
Good
wonderful news