০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ছবি: বামে শাবানা চৌধুরী ডানে মাসুদ লস্কর
হবিগঞ্জের মাধবপুরে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদ্য সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা, বিএনপির ত্যাগী কর্মী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর চাঁদ সুলতানা শাবানা চৌধুরীর দায়ের করা মামলায় স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ লস্করের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মাসুদ লস্কর (৪৫) মাধবপুর উপজেলার শিমুলঘর গ্রামের মৃত মুকিম উদ্দিন লস্করের ছেলে। তিনি সাংবাদিক সংগঠন প্রেসক্লাবের সিলেট বিভাগীয় প্রধান এবং ই-প্রেস নিউজের সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শাবানা চৌধুরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাসের অভিযোগে মাসুদ লস্করের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। হবিগঞ্জ আদালতে দায়ের করা সিআর ৩৩৪/২৬ নম্বর মামলায় অভিযোগ করা হয়, ছাতিয়াইন ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুদ লস্কর ওই নারীকে স্বামীর সংসার থেকে ফুসলিয়ে নিয়ে আসেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে নিজ স্ত্রী পরিচয়ে রাত্রিযাপন করেন মাসুদ লস্কর।
মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে দণ্ডবিধির ৪৯৩ ধারায় অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়। আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন।
এ সময় অভিযুক্ত মাসুদ লস্কর আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে আদালত থেকে জারি করা পরোয়ানাটি হবিগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয় হয়ে মাধবপুর থানায় পৌঁছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাসুদ লস্কর ও শাবানা চৌধুরীর মধ্যে দীর্ঘদিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তারা ই-প্রেস নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে সেই বিরোধ গড়ায় আদালতে মামলা পর্যন্ত।
স্থানীয় সাংবাদিকদের কেউ কেউ মনে করছেন, দুই পক্ষের মধ্যে চলমান বিরোধের দ্রুত সমাধান না হলে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সাংবাদিকতা অঙ্গনেরও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। মাধবপুর থানার সিআর ওয়ারেন্ট রেজিস্টারের দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আদালতের আদেশ তামিল করতে পুলিশ সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করছে।
এদিকে মামলার বিষয়ে অভিযুক্ত সাংবাদিক মাসুদ লস্করের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।