২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম স্বাস্থ্য সারাদেশ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি ও বাণিজ্য খেলাধুলা বিনোদন আন্তর্জাতিক ধর্ম ও জীবন লাইফ স্টাইল শিক্ষা প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান পরিবেশ চাকরি বা ক্যারিয়ার মতামত আইন-আদালত কৃষি ও প্রযুক্তি বিশেষ সংবাদ অপরাধ সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্বকাপ ফুটবল
সারাদেশ / রাজনীতি

ময়মনসিংহ গফরগাঁও এর নিগুয়ারীতে জামায়াতের গণসংযোগে হামলা

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আঃ হালিম সরদার,
গফরগাঁও উপজেলা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ছবি: গফরগাঁও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা

ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার নিগুয়ারী ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গণসংযোগ কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ, নেতাকর্মীদের আহত হওয়া, মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া, লিখিত অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসি এবং পুলিশের বক্তব্য নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গফরগাঁও উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন।  দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা এমদাদুল হক এবং গফরগাঁও উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইসমাইল হোসেন সোহেল।
লিখিত বক্তব্যে জামায়াত নেতারা জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার বেলা ১১টার দিকে দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের পাগলা থানাধীন নিগুয়ারী ইউনিয়নের অললী বাঁশতলী বাজার এলাকায় জামায়াতের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে। তাদের দাবি, হামলায় ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি ব্যবহার করা হয়। এতে নিগুয়ারী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি শফিকুল ইসলাম হিরণ, সেক্রেটারি মাওলানা সাইফুল ইসলাম, সহসভাপতি মাওলানা আশরাফুল ইসলাম, ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা আব্দুল আজিজসহ কয়েকজন আহত হন।

জামায়াত নেতারা আরও দাবি করেন, আহতদের প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পাশাপাশি হামলার সময় মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তারা।


পুলিশের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন, সংবাদ সম্মেলনে পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলামের বক্তব্য নিয়েও আপত্তি জানান জামায়াত নেতারা।
এর আগে কালবেলায় প্রকাশিত সংবাদে ওসি আমিনুল ইসলাম বলেছিলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ করছিলেন এমন অভিযোগের পর বিএনপির লোকজনের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলা বা সংঘর্ষের আলামত পায়নি বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা ওসির এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব হলো ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। তারা ওসির বক্তব্যের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই এবং পুলিশের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।


লিখিত অভিযোগ ও তদন্তের দাবি জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, ঘটনার পর পাগলা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও দ্রুত মামলা রেকর্ড করা হয়নি। তারা অভিযোগটি গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী মামলা রেকর্ড, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
একই সঙ্গে আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলার সময় ভাঙচুর ও মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত এবং রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে প্রত্যেক নাগরিকের অভিযোগ সমান গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জামায়াত নেতারা বলেন, তারা কোনো বিচারবহির্ভূত ব্যবস্থা চান না  বরং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা চান।

Related Article