১৮ এপ্রিল ২০২৬
হোম স্বাস্থ্য সারাদেশ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি ও বাণিজ্য খেলাধুলা বিনোদন আন্তর্জাতিক ধর্ম ও জীবন লাইফ স্টাইল শিক্ষা প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান পরিবেশ চাকরি বা ক্যারিয়ার মতামত আইন-আদালত কৃষি ও প্রযুক্তি বিশেষ সংবাদ অপরাধ সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্বকাপ ফুটবল
সারাদেশ / অপরাধ

রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভায় প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ে সফল হতে মুদি দোকানিকে হত্যা!

১৭ এপ্রিল, ২০২৬

মোঃ মাহবুবুল ইসলাম,
স্টাফ রিপোর্টার

ছবি: বামে, মাইনুল এবং ডানে জুয়েল

রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভার কাউন্সিল বাজার রোড সংলগ্ন এক মুদি দোকানে ঢুকে প্রকাশ্যে ছিনতাইকারী এক দোকানীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে।

১৭ই এপ্রিল ২০২৬ খ্রী: রোজ শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে মুদি দোকানির নিজ দোকানের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মামুনুর রশিদ জুয়েল (৪৮) একজন মুদিদোকান ব্যবসায়ী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, পুঠিয়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত আনছার আলীর ছেলে জুয়েল, প্রতিদিনের ন্যায় খুব সকালে তার মুদি দোকান খুলেছিলেন। দোকান খুলে তিনি সবকিছু ঠিকঠাক করতে করতে তার দোকানের সামনের পাকা রাস্তার অপরপ্রান্তে অবস্থিত গরুর মাংসের দোকানে তিনি তার দোকান থেকেই ৫ কেজি মাংসের অর্ডার দেন। অর্ডারের মাংস রেডি হয়ে গেলে জুয়েলকে জানানো হয়। জুয়েল তৎক্ষনাৎ তার ক্যাশড্রয়ার থেকে একশ ও পাঁচশো টাকার নোট মিলিয়ে অনেকগুলো টাকা একসাথে বের করে গুনতে শুরু করেন।

এ সময় পশ্চিম কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের পালোপাড়া রাস্তায় অবস্থিত ঢাকাপাড়া (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম হীরা বাচ্চুর বাড়ি সংলগ্ন) এলাকায় বসবাসকারী কামালের ছেলে মো. মাইনুল (২৩) হঠাৎ রাস্তার দক্ষিণ দিক থেকে উত্তর দিকে যাওয়ার সময় জুয়েলকে দোকানের ভেতরে অনেকগুলো টাকা গুনতে দেখে, তৎক্ষনাৎ সে দোকানে প্রবেশ করে দোকানী জুয়েলকে তার হাতে থাকা টাকাগুলো তাকে কর্কশভাষায় দিয়ে দিতে বলে। জুয়েল টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, মাইনুল দ্রুত গতিতে জুয়েলের হাতে থাকা টাকার উপরে থাবা দিয়ে টাকা কেড়ে নিতে চায়। এমতাবস্থায়, জুয়েল শক্ত করে টাকাগুলো ধরে থাকলে, উভয়ের মাঝে টাকা নিয়ে ধস্তাধস্তি হয়।

পরিচয় গোপন করার শর্তে উক্ত স্থানে উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শি জানান যে, ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মাইনুল বাহিরে গিয়ে তার পরিচিত এক গরুর মাংসের দোকানীর নিকট হতে একটি মাঝারি ছোট সাইজের চিকন তীক্ষ্ণ ধারালো ছুরি হাতে নিয়ে কিছুটা এগিয়ে এসে একদম সরাসরি জুয়েলের দিকে ছুরিটি ছুড়ে মারলে ছুরিটি জুয়েলের বুকের বাম পাশের হৃদপিণ্ড বরাবর সজোড়ে আঘাত করে।

সাথে সাথে গুরুতর আহত অবস্থায় জুয়েল চিৎকার দিয়ে টাকাগুলো ছেড়ে দিয়ে তার দুইহাত দিয়ে বুক চেপে ধরে। এমন অকল্পনীয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দেখে হত্যাকারী মাইনুল স্তম্ভিত হয়ে উক্ত স্থানেই দাঁড়িয়ে থাকলে তার পিছু পিছু ছুটে আসা সেই পরিচিত কয়েকজন গরুর মাংসের দোকানীরা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং মাইনুলকে খুঁটির সাথে শক্ত করে বেঁধে রেখে পুলিশকে ফোন কল করে। ঠিক একই সময়ের মধ্যে জুয়েল তার দুই হাত দিয়ে তার বাম বুক চেপে ধরে, ছাগলের মাংস দোকানীদেরকে কোনও মতে তার দোকানের পিছনেই অবস্থিত তার বাড়ির লোকজনকে ডাকতে বলেই জুয়েল সজোড়ে দোকানের বারান্দায় লুটিয়ে পড়ে। সাথে সাথে কয়েকজন তার বাড়িতে বিষয়টি জানালে, বাড়ির লোকজন দ্রুত এসে উক্ত স্থানে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় জুয়েলকে উদ্ধার করে, দ্রুত পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাংবাদিক এস এম মাহবুবুল ইসলাম লিটন উক্ত ঘটনার বিষয় সম্পর্কে তার বিশ্বস্ত সুত্রের মাধ্যমে জানতে পেরে, তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌছিয়ে তিনি অনুসন্ধান করতে থাকেন। তার অনুসন্ধান চলাকালীন তিনি মুদি দোকানি জুয়েলের দোকানের সামনের কিছু মাংস ব্যাবসায়ীদের সাথে কথা বলেন। এরপর তিনি পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি জুয়েলের মরদেহ পুলিশী হেফাজতে একটি সাদা মাইক্রোবাসে উঠাতে দেখেন। তিনি উপস্থিত পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, মরদেহ থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি কিছুক্ষণ সেখানে অনুসন্ধান করে পুঠিয়া থানায় চলে যান। থানায় গিয়ে তিনি যখন অনুসন্ধান চালাতে শুরু করেন, তখন ঘটনার প্রকৃত জট খুলতে শুরু করে।

অনুসন্ধানের খাতিরে তিনি সরাসরি পূর্বপরিচিত তদন্ত ওসি মো: দুলাল হোসেনকে জিজ্ঞাসা করেন যে, ঘটনাস্থলে কে গিয়েছিলেন? তৎক্ষনাৎ তদন্ত ওসি দুলাল সাহেব বলেন যে,"আমি গিয়েছি"। সাংবাদিক জিজ্ঞাসা করেন যে, কি ধরনের অস্ত্র দিয়ে জুয়েলকে আঘাত করা হয়েছে? তখন তদন্ত ওসি হতভম্ব হয়ে বলেন যে,"ওসি স্যার গিয়েছিলেন, তিনিই ভালো বলতে পারবেন।" সাংবাদিক এস এম মাহবুবুল ইসলাম লিটন সাথে সাথেই ওসির সাথে কথা বলতে চান জানিয়ে তদন্ত ওসিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে,"ওসি কোথায় আছেন?" কিন্তু তদন্ত ওসি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ব্যাস্ততার দোহাই দিয়ে পরে কথা বলতে বলেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিক এস এম মাহবুবুল ইসলাম লিটনের মনে সন্দেহের খটকাটা লাগলো সেখানেই। সাংবাদিক চোখের আড়াল হতেই তদন্ত ওসি কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ একটি পুলিশ পিকআপ নিয়ে আবারও ঘটনাস্থলে গেলেন ছুরির সন্ধান করতে। কিন্তু অনুসন্ধানী সাংবাদিক এস এম মাহবুবুল ইসলাম লিটনের চোখ এড়াতে পারলেন না, তিনিও খুব দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেন।

ঘটনাস্থলে পৌছিয়ে তদন্ত ওসিকে ছুরির সন্ধান জানতে চাইলে তিনি কোনও কিছু না বলেই উক্ত স্থান ত্যাগ করে এক রকম পালিয়ে যেতে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে যেতে থাকেন। সাংবাদিকের পিছু পিছু ছুটে যাওয়া ও বারবার থামতে বলাতে এক পর্যায়ে তিনি থেমে, নেমে আবার ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। সাংবাদিক দীর্ঘক্ষন অপেক্ষা করে দেখলেন যে, তদন্ত ওসি প্রায় ১ ঘন্টা যাবৎ ছুরিটি খুঁজে না পেয়ে তিনি কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে লাগলেন। এসকল ঘটনার বিস্তারিত সাংবাদিক এস এম মাহবুবুল ইসলাম লিটনের নিচের ফেসবুক আইডিতে লাইভে দেওয়া আছে।

পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত মাইনুলকে ধাওয়া করে আটক করে এবং গণধোলাই দিয়ে দোকানের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে পুঠিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছিনতাইকারী মাইনুলকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে নেয়।

ওসি বলেন, স্থানীয়দের কাছে থেকে আটক আসামিকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। নেশা করার টাকার জন্য আসামি মাইনুল মুদি দোকানি জুয়েলের নিকট টাকা চেয়ে না পেয়ে, এক পর্যায়ে টাকা কেড়ে নিতে চেয়েছিল বলে সে স্বীকার করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এবং উক্ত অপরাধের প্রেক্ষিতে পুঠিয়া থানায় একটি মামলা রজু করা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

Related Article