০১ মে ২০২৬
হোম স্বাস্থ্য সারাদেশ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি ও বাণিজ্য খেলাধুলা বিনোদন আন্তর্জাতিক ধর্ম ও জীবন লাইফ স্টাইল শিক্ষা প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান পরিবেশ চাকরি বা ক্যারিয়ার মতামত আইন-আদালত কৃষি ও প্রযুক্তি বিশেষ সংবাদ অপরাধ সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্বকাপ ফুটবল
সারাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়া কোটির সড়ক প্রকল্পে চরম অব্যবস্থাপনা,তিন বছরে কাজ হয় নাই শেষ এখনো জনদুর্ভোগে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

০১ মে, ২০২৬

আহসান হাবিব রুবেল,
ঠাকুরগাঁও জেলা ( ঠাকুরগাঁও ) প্রতিনিধি

ছবি: তিন বছর ধরে সড়কের কাজ শেষ

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোলানীহাট জিসি থেকে রামনাথহাট আরএইচডি সড়ক (আখানগর ইউপি অফিস হয়ে) উন্নয়ন প্রকল্পটি যেন এক প্রহসনে পরিণত হয়েছে। 

প্রায় ১৮ কোটি ৯৯ লাখ ৭৯ হাজার ৯৬০ টাকার এই প্রকল্প বছরের পর বছর ঝুলে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ক্ষোভে ফুঁসছে পুরো এলাকা।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৩ জুলাই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ, কোথাও ভাঙা সড়ক, কোথাও ধুলার স্তুপ—এ যেন উন্নয়ন নয়, দুর্ভোগ তৈরির এক নির্মম উদাহরণ।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের অধিকাংশ অংশ এখন চলাচলের অযোগ্য। বড় বড় গর্ত, উঠে যাওয়া সুরকি, নিম্নমানের ইট—সব মিলিয়ে সড়কটি এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। যানবাহন চলাচল করলেই ধুলার ঝড় উঠছে, যা আশপাশের পরিবেশকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজ ও চরম দায়িত্বহীনতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দুর্বল তদারকি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধুলা আর ভাঙাচোরা রাস্তা পাড়ি দিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে তাদের।

 অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে, তবুও যেন কারও কোনো দায়বদ্ধতা নেই।
এছাড়া সড়কের সীমানাজুড়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন গাছ এবং বিদ্যুতের খুঁটি, যা অপসারণ না করায় কাজের অগ্রগতি আরও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে একদিকে কাজ বন্ধ, অন্যদিকে দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।

অংশগ ধুলা থেকে রক্ষা পেতে কিছু এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে সড়কে পানি ছিটাচ্ছেন। তবে এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না রুহিয়া, রামনাথ, সেনিহাড়ী, আখানগর, ভেলারহাট সহ আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথে চলাচল করলেও কাজের ধীরগতির কারণে তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

ভেলারহাট এলাকার বাসিন্দা হোসেন আলী জানান, “এ রাস্তাটি আমাদের রুহিয়ায় যাওয়ার প্রধান সড়ক। কিন্তু তিন বছরেও কাজ শেষ হয়নি। মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে একাকার হয়ে গেছে। তাই দ্রুত রাস্তার কাজ শেষ করে পিস ঢালাই করার দাবি জানাচ্ছি।”

এদিকে, ভেলারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “রাস্তার কাজ শেষ না হওয়ায় ধুলাবালিতে পুরো বিদ্যালয় এলাকা নোংরা হয়ে যাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন বলিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল সালাম। তিনি বলেন, “রাস্তার পাশেই বিদ্যালয় হওয়ায় ধুলাবালির প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ছে। অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি।” এছাড়া সড়কের দুই পাশে গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকায় বড় যানবাহন চলাচলেও মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং শিক্ষার্থীদের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কের সংস্কারকাজ শেষ করা হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপই পারে এ দুর্ভোগ থেকে এলাকাবাসীকে মুক্তি দিতে। 

অন্যদিকে,ঠিকাদার আইনুল হক মুঠোফোনে জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিটুমিনের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে এবং দেশে সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, “বিটুমিন সংকটের কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েক কিলোমিটার অংশে কাজ শুরু করলেও হঠাৎ সংকট দেখা দেওয়ায় তা থমকে যায়। পর্যাপ্ত বিটুমিন পাওয়া গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ পুনরায় শুরু করে শেষ করার চেষ্টা করা হবে।”

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাস্নদ মামুন বিশ্বাস জানান, সড়কের অনেক জায়গায় রাস্তার সীমানার মধ্যে গাছ থাকায় কাজ এগিয়ে নিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, “অচিরেই এসব গাছ অপসারণ করে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া সড়কের বিভিন্ন অংশে খুব শিগগিরই পুনরায় কাজ শুরু হবে বলে আমরা আশা করছি।”

Related Article
comment
মোঃ মনির হোসেন বকাউল
29-Sep-23 | 10:09

Good news

মোঃ মনির হোসেন বকাউল
10-Dec-23 | 04:12

Good