০৩ এপ্রিল, ২০২৬
সাকির আমিন,
ছবি: ছাতক পৌর সভায় নিয়োগ পেয়েও যোগদান করতে না পারা তাজ উদ্দিনের মানবেতর জীবনযাপন
ছাতক পৌর সভায় নিয়োগ পেয়েও যোগদান করতে না পারা তাজ উদ্দিনের মানবেতর জীবনযাপন।
সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভায় নিয়োগ পেয়ে ও যোগদান করতে না পারা তাজ উদ্দিনের পরিবারের সদস্য দের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বিনা অপরাধে পৌর সভা অফিস থেকে বের করে দেয়ার পর। কোন কাজের সন্ধান না পেয়ে বেকার হয়ে পড়া তাজ উদ্দিন এখন পরিবারের সদস্য দের নিয়ে আত্মা হুতি দেওয়ার দুঃসাহসিক পরিকল্পনা করছেন।
কয়েকবার নিজে আত্মা হত্যার চেষ্টা করলেও প্রতিবেশিরা তাকে রক্ষা করেছেন। ধারদেনার ভার নিয়ে সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে তাজ উদ্দিনের।
পৌর প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন সূত্রে জানা যায় তাজ উদ্দিন ২০১২ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৯ বছর ছাতক পৌর সভা কার্যালয়ে এমএলএসএস পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করে আসছেন।
২০২১ সালের অক্টোবর মাসের ১৬ তারিখ ছাতক পৌর সভার কর্মচারী নিয়োগ ও পদোন্নতি কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিম্মমান সহকারি কাম মুদ্রাক্ষরিক,কার্য্য- সহকারী, মিকচার মেশিন অপারেটর, এমএলএসএস ও নৈশ প্রহরী সহ মোট ৫ টি পদে লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অন্য চার জন প্রার্থীদের সাথে এমএলএসএস পদে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে তাজ উদ্দিন উর্ত্তিন্ন হন।
তাকে স্থায়ী নিয়োগের অংশ হিসেবে অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ পত্র প্রদান করা হয়। কিন্তু তৎকালীন পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর সাথে কাউন্সিলর তাসলিমা জান্নাত কাকুলির রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকায় মেয়র তাজ উদ্দিনকে সন্দেহ করেন।তার অফিসিয়াল গোপনীয় তথ্য তাজ উদ্দিন কাকলির কাছে পাচার করে দেন।
এ সন্দেহ থেকে মেয়র তাজ উদ্দিনের সাথে অপর ৪ টি পদে উর্ত্তিন্ন ৪ জনকে চাকুরীতে যোগদানের সুযোগ দিলেও তাকে যোগদান থেকে বিরত রাখেন।
ফলে মেয়রের রোষানলের শিকার অসহায় বেকার তাজ উদ্দিন এখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিশাহারা হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
নানা সময় এলাকার মূরব্বি ও গন্য মান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সুপারিশ করলেও মেয়র তাকে চাকুরিতে যোগদানের সুযোগ দেননি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সুনামগঞ্জ জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম চৌধুরীকে অন্তর্ব্তী কালিন সরকার মেয়র পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে পৌর প্রশাসক নিয়োগ করে।
অসহায় তাজ উদ্দিন কোন উপায় না পেয়ে পৌর প্রশাসক সহ নানা দপ্তরে ধর্না দিলেও নিয়োগ পাওয়া পদে যোগদান করতে পারছেননা।ফলে তার দুটি সন্তানের লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।তাজ উদ্দিন জানান আমাকে ৩ বছর যাবত অস্থায়ী ভিত্তিতে এমএলএসএস পদে চাকুরী করিয়ে কোন ধরনের বেতন ভাতা দেননি মেয়র। আমার সাথে ইন্টারভিউ দেয়া চাকুরী প্রার্থীদর যোগদানের সুযোগ দিলেও মিথ্যা অজুহাতে আমার সাথে করেছেন বৈষম্য। আমার দুমুঠো ডাল ভাত খেয়ে ৬ জনের সংসার চালানোর সক্ষমতা নাই। তাই আমি দুনিয়া থেকে আত্ম হুতি দিতে চাই। সাবেক পৌর কাউন্সিলর তাসলিমা জান্নাত কাকুলি জানান আমাকে তাজ উদ্দিন কখনো কোন বিষয়ে তথ্য দিত না।আমার এবং তার পঞ্চায়িতের সামনে বলেছি তাজ উদ্দিন আমাকে কোনো তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে নাই। আমি চাই সে গরিব মানুষ তার চাকুরী ফিরে পাওয়া উচিত।
সাবেক পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান এ বিষয়ে বর্তমানে জিনি দায়িত্বে আছেন তার সাথে আলাপ করেন। ছাতক পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা জানান দরিদ্র মানুষটির চাকুরী হওয়া দরকার। তার বিষয়ে আদালত একটা সিদ্ধান্ত দিবে।
Good news
Good