১৩ অক্টোবর, ২০২৬
মোঃ মনির হোসেন বকাউল,
ছবি: বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ভিডিও ধারন করছে সহকারী শিক্ষক ছালে আহমেদ
হবিগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের বিষপোড়া সহকারী শিক্ষক ছালে আহমেদ।
অসদাচরণ, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতি, পাঠদানে ফাঁকিবাজি, উগ্রতা ও শ্লীলতাহানির করার মতো অজস্র অভিযোগ ওঠেছে তার বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে বসে মোবাইল ফোনে শিক্ষিকাদের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া, অফিস রুমে শিক্ষিকাকে একা পেয়ে শ্লীলতাহানী করার প্রতিকার চাইতে গিয়ে প্রধান শিক্ষিকাকে দলবল নিয়ে হেনস্তা করারও অভিযোগ রয়েছে সহকারী শিক্ষক ছালেহ আহমেদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চুনারুঘাট উপজেলার আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছালেহ আহমেদ। চাকুরী জীবনের শুরু থেকেই উচ্ছৃঙ্খলা আর অসদাচরণে অতিষ্ঠ হয়ে ছিল তার সহকর্মীগন।
২০১৬ সালে চুনারুঘাটের পড়াঝার সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের সহকর্মীরা তার ধারাবাহিক যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেখান থেকে কালিশিরি সঃ প্রাঃ স্কুলে শাস্তিমূলক বদলী করা হয়েছিল।
পরে ২০১৯ সালের মাঝমাঝি সময়ে হাজী আব্দুল হাশিম সঃ প্রাঃ বিদ্যালয় যোগদান করে। সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাসহ সহকারী শিক্ষিকাদের শ্লীলতাহানী করে।
এসব বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় শালিস হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ছালে অশ্লীলতা না করার অঙ্গীকার করে ৩শ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত বন্ড দেয়।
এর পর ২০২৩ সালে আবার স্কুল ও শিক্ষিকাদের নিয়ে বির্তকিত ভিডিও ছড়াতে থাকে।
এসব অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পেয়ে বিভাগীয় মামলা রুজু হয়েছে বলে চুনারুঘাট শিক্ষা অফিস সূত্র নিশ্চিত করেছে।
কালিশিরি সঃ প্রা বি প্রধান শিক্ষক মতিউর আক্ষেপ করে বলেন তার কর্মকাণ্ডে শিক্ষক সমাজের মানসম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। ২০১৫ সালে যোগদান করার পর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জর্জরিত ছিলাম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানিয়েছে ২নং আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার হাছন আলীর ছেলে ছালেহ আহমেদ গোষ্টিগত আর রাজনৈতিক ক্ষমতায় চাকুরীবিধি অব্যাহতভাবে লঙ্গন করে সহকর্মীদের হেনস্তাসহ নানা কুকৃর্তি করে যাচ্ছে।
এ ঘটনায় তাকে আলীনগর সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে বদলী করে।
শিক্ষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষক ছালেহ আহমেদকে জেলা শিক্ষা অফিসার চলতি বছরের ২৭ জুলাই ৯৬৫ নং স্মারকে আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে হাজী আব্দুল হাশিম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বদলী করেন। এখানে এসে পাঠদান না করে সারাক্ষণ সহকর্মী শিক্ষিকদের ভিডিও ধারন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এসব বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসে শিক্ষিকাগন স্বাক্ষরিত অভিযোগ দায়ের করলে ছালে ক্ষিপ্ত হয়ে দলবল নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে শিক্ষিকাদের হেনস্তা করে। এতে আতংকিত সম্প্রতি উপজেলা শিক্ষা অফিস, চুনারুঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রধান শিক্ষক ডেইজি রানী দাস।
এ বিষয়ে শিক্ষক ছালে আহমেদের মেবাইলে একাধিকার কল দিলেও ওনি রিসিভ করেনি। পরে ক্ষুদেবার্তা পাঠালে ওনি কোন উত্তর দেয়নি।
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক খালেদুর রশিদ একজন শিক্ষকের কার্যকলাপে পুরো শিক্ষক সমাজ প্রশ্নের সম্মুখীন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কমিটির সভাপতি গালিব চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে তিনি পুরোপুরি জানেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনায় দেওয়া আছে। শিক্ষিকাকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় থানায় ফৌজদারি অপরাধে অভিযোগ দেওয়া আছে।
সহকরী শিক্ষক ছালে আহমেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান আছে স্বীকার করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম জানান ইতিমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষককে অন্য স্কুলে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
Good news
Good
wonderful news