১৮ অগাস্ট, ২০২৫
কাজল কান্তি দে,
ছবি: কক্সবাজার জেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিস ও জমির নকশা
অতিরিক্ত উৎসকরের চাপে কক্সবাজার জেলায় জমি রেজিস্ট্রেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। নাল জমিতে প্রতি শতকে ২৫ হাজার টাকা, আবাসিক জমিতে ৫০ হাজার টাকা এবং ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা কর বাধ্যতামূলক হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতা থেকে শুরু করে দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট সবাই বিপাকে পড়েছেন।
কক্সবাজার জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত ২৪ জুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এলাকা ও জেলা সদরের সব পৌর এলাকায় জমি রেজিস্ট্রেশন করলে এ হার কার্যকর হবে। নাল শ্রেণির জমিতে প্রতি শতকে ২৫ হাজার টাকা এবং আবাসিক জমিতে প্রতি শতকে ৫০ হাজার টাকা কর দিতে হবে। এছাড়া তিল পরিমাণ জমিও রেজিস্ট্রি করলে ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা উৎসকর প্রযোজ্য হবে।
ঈদগাঁও উপজেলার বাসিন্দা কবির আহমদ জানান, ৪০ শতক ধানি জমি বিক্রি করতে চাইলেও রেজিস্ট্রেশন খরচের কারণে ক্রেতারা পিছিয়ে যাচ্ছেন। ৪০ শতক জমির শুধু উৎসকর দিতে হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। অন্যান্য খরচ আলাদা। এতে ক্রেতারা আর এগোতে চাইছেন না। চিকিৎসার খরচ জোগাতে জমি বিক্রি করতে না পেরে আমি চরম বিপাকে পড়েছি।
জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তারা জানান, গত ১ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত জমি রেজিস্ট্রেশন কার্যত শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। যে কয়টি দলিল হয়েছে তা হলো বায়নামা, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, হেবা ঘোষণা ও দান ঘোষণার দলিল। রাজস্ব আদায়ের মূল দলিল—সাফ কবলা—রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রেই ভোগান্তিতে পড়ছেন সবাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “সরকার রাজস্ব বাড়ানোর জন্য জনগণের ওপর অতিরিক্ত করের ভার দিয়েছে। কিন্তু এতে রাজস্ব আদায় না বাড়িয়ে বরং কমছে। শত শত ক্রয়-বিক্রয় দলিল আটকে আছে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে।”
জেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দীন মিজান বলেন, “রেজিস্ট্রি ফি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় অনেকে জমি নিবন্ধন করতে পারছেন না বলে আমাদের জানাচ্ছেন। আমরাও জনস্বার্থে উৎসকর কমানো বা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু এখনো সুফল মেলেনি। এতে সরকারও বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে।”
জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আবুল হোসাইন জানান, “সাধারণ মানুষ গণস্বাক্ষর করে জেলা রেজিস্ট্রার বরাবরে আবেদন করেছেন অতিরিক্ত উৎসকর কমানোর জন্য। কিন্তু এর সুফল জনগণ এখনো পায়নি।”
এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার রেজাউল করিম বকসি গণমাধ্যমকে বলেন, “এই নীতিমালার কারণে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হচ্ছে। সরকার রাজস্ব বাড়ানোর জন্য এটা করলেও উল্টো রাজস্ব বহুগুণ কমে গেছে। যেহেতু এটা সিটি করপোরেশন এলাকায় নয়, তাই ৮১ মৌজার এই উৎসকর নিয়ে সরকারের পুনর্বিবেচনার দরকার রয়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলকে জানিয়েছি।”
Good news
Good