০৬ এপ্রিল, ২০২৬
কাজল কান্তি দে,
ছবি: কৃষকের ফাইল ছবি
কৃষি খাতে সরকারের দেওয়া ভর্তুকি, ঋণ ও প্রণোদনার মতো সুবিধা কৃষকের কাছে সহজলভ্য করতে কৃষকদের কার্ডের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় বাহারছড়া ১টি ব্লকে পাইলটিং করা হবে। এই ব্লকে ১ হাজার ৬৯৮ জন কৃষক -কৃষাণী পাবেন এই কার্ড।
আগামী ১৪ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন নিজ নিজ জেলার মন্ত্রীরা এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে "কৃষি কার্ড" তুলে দিবেন বলে জানা যায়। সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারের সন্তান সালাহউদ্দিন আহমেদ ওই দিন উপস্থিত থেকে প্রান্তিক তালিকাভুক্ত কৃষকদের হাতে কার্ড তুলে দিবেন।
কক্সবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছেন, টেকনাফ উপজেলা বাহারছড়া ১টি ব্লকে পাইলটিং করা হবে। এই ব্লক'এ ১ হাজার ৬৯৮ জনের মধ্যে, পুরুষ ১ হাজার ৪৬৩ জন এবং মহিলা ২৩৫ জন। তার মধ্যে শস্য ১ হাজার ৬৪১, মৎস্য ২ জন, খামারি ১০ জন, লবন চাষি ২ জন, ভূমিহীন ১২৪ জন, প্রান্তিক ১ হাজার ১৩৬ জনসহ ক্ষুদ্র মাঝারিসহ মোট ১,৬৯৮ জন নারী-পুরুষ পাবেন সরকারের দেওয়া এই কার্ড। এ ছাড়া কৃষকের আয়, জমির মালিকানা ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ক্ষুদ্র, ভূমিহীন, প্রান্তিক, মাঝারি ও সচ্ছল এই ৫ শ্রেণিতে কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করার কাজও চলমান আছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তিন শ্রেণির কৃষক এ সুবিধার আওতায় আসছেন। কার্ডের সুবিধাভোগী কৃষকরা প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে পাবেন। কার্ড গ্রহণকারী কৃষকদের দেওয়া হবে ১০ ধরনের সুবিধা। সুবিধার মধ্যে থাকছে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি, সরকারি প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে সেচসুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বিমাসুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা, কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার তথ্য ও রোগবালাই দমনে পরামর্শ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক বিমল কুমার প্রামাণিক দৈনিক কক্সবাজার'কে জানিয়েছেন, 'আগামী ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন বলে জানতে পেরেছি। তবে, সরকারিভাবে এখনো কোনো চিঠি হাতে পায়নি। ওইদিন টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া একটি ব্লকে ১ হাজার ৬৯৮ জন পুরুষ মহিলাকে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে জেলার প্রতিজন কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে'।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরকার কৃষি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, কৃষকের সামগ্রিক আয় বৃদ্ধি, প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা, কৃষকের চাষাবাদের খরচ কমানো, কৃষিপণ্যের বিপণন প্রক্রিয়া উন্নত করা ও সব ধরনের ভর্তুকি (আর্থিক ও কৃষি উপকরণ) বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
জানা যায়,বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম অঙ্গীকার ছিল কৃষক কার্ড। কৃষি খাতে মৌলিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে এ কার্ড চালুর অঙ্গীকার করেছে বিএনপি। ইশতেহারে কৃষি খাত পিছিয়ে থাকার কারণ হিসেবে স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহারকে কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে বিএনপি সরকার। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে এ ঋণ মওকুফ করে সরকার। মওকুফ করা ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এতে উপকৃত হবেন কমপক্ষে ১২ লাখ কৃষক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, 'দেশে মোট কৃষক পরিবারের সংখ্যা ১ কোটি ৬৫ লাখ। প্রাথমিকভাবে কৃষক কার্ডের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ বছরে ৬৮১ কোটি টাকা। তবে সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পর ব্যয় কমবেশি হতে পারে।'
Good news
Good